“বৈবাহিক ধর্ষণ” এর বর্ণনা

omair34
  • আপডেট টাইম : নভেম্বর ০৫ ২০২০, ১৬:৩১
  • 755 বার পঠিত
“বৈবাহিক ধর্ষণ” এর বর্ণনা
দিগন্ত বাংলা ডেক্সঃ
‘বৈবাহিক ধর্ষণ’ কথাটি কি সঠিক? এই বিষয়ে কয়েকটি হাদিস তুলে ধরব ইনশাআল্লাহ্।
বলা হচ্ছে, স্ত্রীর অনুমতি ব্যতীত তার সাথে স্বামী সহবাস করলে এটি ধর্ষণ হবে! ব্যাপারটা খুবই হাস্যকর মনে হলেও এই ধারণাটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দিতে চাচ্ছে একটি মহল। এর সূচনা করেছিলো প্রথম আলো, বিবিসি বাংলা গং। তাই, এই ব্যাপারে আমাদের সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।
আমরা ভারসাম্যপূর্ণ পন্থায় বিষয়টির সমাধান দিতে প্রয়াস চালাব ইনশাআল্লাহ্। প্রথম কথা হলো, পুরুষের যৌন চাহিদা নারীর চেয়ে অনেক বেশি থাকে, এটি বিজ্ঞানও স্বীকার করে। তাছাড়া, একজন নারী যৌন চাহিদার দিক থেকে নিজেকে যতটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, পুরুষ ততটা পারে না। সেজন্য হাদিসে বলা হয়েছে, ‘‘যখন কোনো পুরুষ তার স্ত্রীকে মিলনের জন্য ডাকবে, তখনই যেন সে তার ডাকে সাড়া দেয়। এমনকি সে যদি উটের পিঠস্থ গদিতেও থাকে।’’ [আলবানি, সহিহুল জামি’: ৫৪৭]
তাই বলে শুধু পুরুষের চাহিদাই নয়, নারীর চাহিদারও যথার্থ মূল্যায়ন করেছে আমাদের দ্বীন—ইসলাম। হযরত উসমান ইবনু মাযউন (রা.) অত্যন্ত ইবাদতগুজার ছিলেন। একদিন তাঁর স্ত্রী ফ্যাকাশে বদন এবং পুরাতন কাপড়ে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীদের কাছে এলেন। তাঁরা তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তোমার এই অবস্থা কেন? কুরাইশদের মাঝে তো তোমার স্বামী থেকে ধনী কেউ নেই।’ তিনি বললেন, ‘এতে আমাদের কি হবে? কেননা আমার স্বামীর রাত কাটে নামাজে আর দিন কাটে রোজায়।’ তারপর আল্লাহর রাসুল প্রবেশ করলেন। তখন রাসুলের স্ত্রীগণ বিষয়টি তাকে অবহিত করলেন। অতঃপর হযরত উসমান ইবনু মাযউন (রা.)-এর সাথে সাক্ষাত হলে তিনি তাকে বললেন, “আমার মধ্যে কি তোমার জন্য কোনো আদর্শ নেই?” উসমান ইবনু মাযউন (রা.) বললেন, ‘অবশ্যই হে আল্লাহর রাসূল! আমার পিতামাতা আপনার জন্য উৎসর্গিত হোক!’ তখন তিনি বললেন, “তোমার কি রাত নামাজে আর দিন রোজায় কাটে না? অথচ তোমার উপর তোমার পরিবারের হক রয়েছে আর তোমার উপর তোমার শরীরেও হক রয়েছে। তুমি নামাজ পড়বে আবার ঘুমাবে; রোজা রাখবে আবার ভাঙবেও।” বর্ণনাকারী বলেন, তারপর আরেকদিন তার স্ত্রী পরিচ্ছন্ন ও সুগন্ধি মেখে এমন অবস্থায় এলেন, যেন তিনি নববধু! [হাইসামি, মাজমাউয যাওয়াইদ: ৭৬১২; ইবনু হিব্বান, আস-সহিহ: ৩১৬]
মূলত, দাম্পত্যজীবন চলে দুজনের বোঝাপড়ার মাধ্যমে। এতে, কখনো ছাড় দিতে হয়, কখনো মাফ করতে হয় আবার কখনো সবর করতে হয়। সবসময় সবার মন-মানসিকতা একই থাকে না এবং সবার চাহিদাও একই থাকে না। এসময়গুলোতে উভয়পক্ষকেই কম্প্রোমাইজ করতে হয়। এছাড়া সুখী জীবনযাপন করা সম্ভব নয়। পাশ্চাত্যের দাসেরা যতই উস্কানি দিক, মুসলিমদের উচিত কুরআন-সুন্নাহকেই আঁকড়ে ধরা।
হ্যাঁ, সমাজে অনেক জালিম থাকে। সেটা পুরুষদের মধ্যে একটু বেশি হয়, সেটাও সত্য। তবে, এমন নারীও আছে অগণিত। এদের কাছে ‘ভালোবাসা’ মূখ্য বিষয় নয়, বরং শারীরিক চাহিদা মেটানোই সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। এরা ছাড় দিতে জানে না, সবর করতে পারে না। আল্লাহ্ তাদের পূর্ণ হিদায়াত নসিব করুন। আমিন।
তারপর সংক্ষেপে কিছু কথা:
যদি স্ত্রী শারীরিকভাবে একদম অপারগ বা খুব অসুস্থ না হয়, তবে স্বামীর আহ্বানে তার সাড়া দেওয়া ওয়াজিব। স্বামীর আহ্বানে সে সাড়া না দিলে গুনাহগার হবে। এমনকি, সহিহ বুখারি ও মুসলিমের হাদিসে এসেছে, সারা রাত ফেরেশতারা তাকে অভিশাপ দিতে থাকে। তবে, সে একান্তই অপারগ হলে, তার ক্ষেত্রে জোর খাটানো যাবে না। আল্লাহ্ বলেন, ‘‘আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যাতীত কোনো কাজের ভার দেন না।’’ [সুরা বাকারা, আয়াত: ২৮৬]
একইভাবে, স্ত্রীর চাহিদা পূরণ করাও স্বামীর উপর আবশ্যক, যা আমরা উপরে উসমান ইবনু মাযউন (রা.)-এর স্ত্রীর ঘটনায় দেখেছি। ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ্ (রাহ.) তাঁর মাজমু‘উ ফাতাওয়াতে এটি জরুরি বলেছেন।
এখন কথা হলো, যদি স্ত্রী সর্বদাই অক্ষম থাকেন, তবে স্বামীর জন্য হারাম পন্থায় যৌন চাহিদা মেটানো জায়েয নেই। তাই, তিনি চাইলে সবর করতে পারেন আবার দ্বিতীয় বিয়েও করতে পারেন।
আর যদি স্বামী পুরোপুরি অক্ষম হয়ে যায়, তবে স্ত্রীরও হারাম পন্থায় যৌন চাহিদা মেটানো জায়েয নেই। তাই, চাইলে তিনি সবর করবেন অথবা স্বামীর কাছ থেকে তালাক নিবেন। স্বামী তালাক না দিতে চাইলে মামলা করবেন। এটিই ইসলামের বিধান।
ইসলামের বিধানে কারও উপর কোনো জুলুম নেই। সকলের অধিকার ইসলাম নিশ্চিত করেছে। সুতরাং, কোনো সেকুলার গোষ্ঠী বা আহম্মক শ্রেণি যদি আমাদের সুন্দর দাম্পত্যব্যবস্থাকে ধ্বংস করতে চায়, তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো জরুরি।
Please follow and like us:
এই ক্যাটাগরীর আরো খবর

বিজ্ঞাপন