জনশূন্যতাই আজ পরিণত হয়েছে অপরাধ চক্রে!

মেহেদী হাসান স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট ।
  • আপডেট টাইম : এপ্রিল ২২ ২০২০, ০৯:০৭
  • 852 বার পঠিত
জনশূন্যতাই আজ পরিণত হয়েছে অপরাধ চক্রে!

মাসুদ রানা মিঠু

মাসুদ রানা মিঠুঃ- গোটা বিশ্ব আজ এক মহা বিপর্যয়ের মধ্যে আছে, আমরাও তার বাইরে না। এই মহামারি কালে আমরা সবাই যে যার ঘরে অবস্থান করছি, বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া আমরা কেও বাইরে বের হচ্ছিনা, নিদিষ্ট সময়ে র মধ্যে সকল দোকানপাট, বাজারঘাট বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। রাজধানী সহ দেশের সকল ছোট বড় শহর নির্জন হয়ে পড়েছে। ঠিক এই পরিস্থিতির সুযোগ নিচ্ছে অপরাধ চক্র। ডাকাতি ছিনতাই সহ বেড়ে গেছে মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক সেবনকারীর সংখ্যা, প্রয়োাজনের তাগিদে বাহিরে আসা মানুষেরা শিকার হচ্ছে ছিনতাইকারীর। ডাকাতি হচ্ছে বিভিন্ন দোকানপাটে, বাসাবাড়ি থেকে চুরি হচ্ছে টাকাপয়সা ও মালামাল। এসকল কারনে করোনা আতঙ্কের সাথে যুক্ত হয়েছে নতুন আতঙ্ক। বিশেষ করে রাতে সহিংসতার দেখা মিলছে বেশি, এ সকল কাজে বেশি লিপ্ত হয়েছে মাদকসেবিরা। মাদকাসক্ত আমাদের দেশের একটি ভয়াংকর ব্যাধি, এ ব্যাধি থেকে আমরা এখনও বের হতে পরিনি। শহর ছাড়াও শহরের বাইরে এ পরিস্থিতির দেখা দিয়েছে, বিশেষ করে দেশের সীমান্ত এলাকাগুলোতে মাদকের প্রভাব বেশি দেখা যাচ্ছে, এখানে অধিক হারে মাদকসেবিরা ভিড় জমিয়েছে, বিভিন্ন অভিনব কৌশলে বেচাকেনা হচ্ছে মাদকদ্রব্য। বিভিন্ন জায়গায় দেখা মিলছে ফেনসিডিলের বতলসহ নানা মাদক উপকরণ, এ পরিস্থিতিতে সরকারের যেমন দায়বদ্ধতা আছে তেমনি আমাদের দায়বদ্ধতাও কম নয়, আমাদের সকলকে এক সাথে এগিয়ে আসতে হবে সকল প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণের জন্য। পাশাপাশি প্রশাসনের আরো বেশি তৎপর হওয়া দরকার বলে আমি মনে করি। এ ছাড়াও বর্তমান পরিস্থিতিতে বেড়েছে পারিবারিক সহিংসতা, মনুষেরা ঘরে থাকার কারণে জড়িয়ে পড়ছে নানা কলহে, প্রাণ হারিয়েছে গৃহবধু। আমাদের মানুষিকতার পরিবর্তন করতে হবে, মনের অশান্তিকে কোনোভাবেই শারিরিক নির্যাতনে রুপদান করা যাবেনা, বর্তমান পরিস্থিতিকে আমাদের খুবি ঠান্ডা মাতথায় মোকাবেলা করতে হবে। নাহলে আমরা নিজেদেরকে যেমন ক্ষতির মুখে ঠেলে দিচ্ছি তেমনি ক্ষতির মুখে পড়বে আমাদের দেশ। এসকল অপরাধ প্রবনতা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য সরকারের বিশেষ নজরদারি বাড়াতে হবে। মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম দারা এসকল পরিস্থিতি থেকে মুক্তির নানা কৌশল প্রচার করতে হবে, যাতে করে মানুষ সচেতন হতে পারে।
বিশ্বের বিভিন্ন গুণী দেশের দিকে তাকালে বোঝা যাবে তারা এসকল বিষয়ে কতটা সচেতন, এই সংকটময় মুহূর্তে আমাদের কোনোভাবেই পরিবারতন্ত্রের মত পরিস্থিতির সৃষ্টি করা যাবেনা, বাড়িতে থেকে যদি আমরা পারিবারিক যুদ্ধের সৃষ্টি করি তাহলে আমরা এই সংকটময় পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে পারবো না, আজ এই পরিস্থিতিতে সহিংসতার কারণ কর্মহীনতা। শ্রমজীবী মনুষেরা আজ কর্ম হারিয়েছে, কর্ম না থাকায় পেট চালানোর জন্য কিছু মানুষ এ সকাল কুকর্মে লিপ্ত হচ্ছে। বর্তমান এই পরিস্থিতিতে অনেক প্রতিষ্ঠান কর্মচারী ছাটাই করছে, যে সকল প্রতিষ্ঠান কর্মী ছাটাই করছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপে নেওয়া উচিত বলে আমি মনে করি। কর্মজীবি মানুষদের কোন ভাবেই কর্মচ্যুত করা যাবেনা, তাহলে কিছুটা হলেও অপরাধ প্রবনতার হ্রাস করা সম্ভব হবে। সাময়িক খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করার থেকে কর্ম বাচিয়ে রাখা উত্তম পন্থা। বেকারত্ব দূরীকরণে যেমন অপরাধ হ্রাস পায়, তেমনি কর্ম বাচিয়ে রাখলে অপরাধ প্রবণতা হ্রাস পাবে বলে আমি মনে করি। তাই এই চলমান পরিস্থিতিতে আমরা যেখানেই অপরাধ দেখবো সাথে সাথে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নেবো, কেবলমাত্র আমাদের সচেতনতাই পারে অপরাধ প্রবনতা হ্রাস করতে।

Please follow and like us:
এই ক্যাটাগরীর আরো খবর

বিজ্ঞাপন